মুক্তমনা - র কাছে প্রেরীত চিঠি

Author: Abhishek Chatterjee /

সম্পাদক সমীপেষু,
সম্প্রতি অভিজিত বাবুর হত্যাকান্ডের ঘটনা শুনে আপনাদের এই ব্লগে visit করেছিলাম. এখানে এ বুক সেকশন এ ধর্ম বিষয়ক একটি প্রবন্ধ পরে আমি চমকে উঠলাম . ওই প্রবন্ধে ঋগ্বেদ এর দশম মন্ডলের সূত্রটির যে অনুবাদ আপনারা প্রকাশ করেছেন তা দেখে প্রতিবাদ করতে বাধ্য হচ্ছি . 
এই পর্যন্ত্য পরে নিশ্চই আপনারা আমাকে একজন কট্টর "ধর্মান্ধ" "কুসংস্কারাচ্ছন্ন""বিজ্ঞানবিরোধী" ভাবছেন.
আপনারা অত্যন্ত scientific দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন . পৃথিবীর একটি দুর্বল জীব হিসাবে নিজের অজ্ঞতা স্বীকার করছি .

আমি আমার বসবাসকারী দেশের কাছ থেকে যে উপকার পেয়েছি তাতে আপনাদের এই scientific উক্তির প্রতিবাদ না করলে নিজেকে একজন কুলাঙ্গার  ও অকৃতজ্ঞ বলে মনে করব . যে মহান দেশকে স্বাধীন করবার জন্য অজস্র বিপ্লবী প্রাণ উৎসর্গ করেছেন সেই দেশেরই কিছু সন্তান সেই মহান দেশের সুপ্রাচীন ও অমূল্য সম্পদ কে বিকৃত করছেন দেখে এই  ইতর জীবটি চুপ থাকতে পারছে না . 
"বিজ্ঞান" শব্দ সর্বপ্রথম পৃথিবীর প্রাচীনতম বৈদিক সংস্কৃতি তে পাওয়া যায় . এই বিজ্ঞানের অর্থ বিশেষ জ্ঞান যাতে জীবেরা প্রকৃতির ও নিজের স্বরূপ উপলব্ধি  করে "মুক্তি "(কুসংস্কার) লাভ করতে পারে . বৈদিক ভারতের সত্যদ্রস্টা (আপনাদের কাছে মিথ্যেবাদী ও ভন্ড) ঋষিদের পথে অনুসৃত হবার জন্য আমাদের দেশ কাউকে কোনদিন আক্রমন করেনি . তারা পরস্পরের সাথে সহাবস্থান করত . এই মুক্ত প্রকৃতির মধ্যে তারা স্বাধীন ভাবে ঘুরে বেড়াত " তারা এতই "অসভ্য" ও "বর্বর" ছিল যে কথাও তারা নির্দিষ্ট ভাবে বসবাস করার কথা চিন্তা করতে পারত না ."জানোয়ারের" মত তারা ঘুরে বেড়াত ও কোথাও আশ্রয়ার্থে কুটির নির্মান করত . তারা এতই মুর্খ ছিল জর  নিজের শরীরের ভোগবিলাসের (Air conditionar , ৫ তারা hotel  , ac taxi) জন্য চিন্তা করত না . শুধুমাত্র তারা বিজ্ঞানের কথা চিন্তা করত , আপনারা এর অস্বীকার করলেও বর্তমানে বিশ্ববন্দিত "theory of relativity" ও "মহাপ্রজ্ঞাপারমিতা" সুত্রের সাদৃশ্য দেখতে পারেন .Einstein  একবার নিজের এক বৈজ্ঞানিক বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করেন "আমরা যে চাঁদ কে দেখছি, আমাদের চোখ সরিয়ে নেয়ার পরও তা কি ওই একই অবস্থাতে থাকে ?" এর সহস্র
বছর আগে আচার্য্য শঙ্কর এর উত্তর দিয়ে গেছেন "জগত্মিথ্যা" অর্থাৎ আমরা চোখের সামনে যা দেখচি তা illution মাত্র,
যাকে আপনারা "পাগলের প্রলাপ" মনে করেন .
সুসভ্য দেশ ইউরোপে প্রথম civilization এর উৎপত্তিস্থল . এখানে সর্বপ্রথম civilization দুটি ভাগে বিভক্ত হয়.
১ religion(যাকে আপনারা ধর্ম বলছেন ) 
২ science(যাকে আপনারা বিজ্ঞান বলছেন )
ইউরোপে এই দুই ধারার সংঘর্ষ স্মরণীয় .একদল GOD নামক রাজার নামে সবাই কে শাসন করে, মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে অপরদলের সৃষ্টি করে . প্রথমোক্ত দল প্রথমে নিষ্ঠুর ভাবে আন্দোলনকারীদের হত্যা করার প্রচেষ্টা চালায় . কিন্তু প্রবল জনরোষের কাছে তারা হার মানে ও পৃথিবীর অন্য প্রান্তে ছড়িয়ে গিয়ে পুনরায় সংঘর্ষ চালায়(এই সংঘর্ষই অভিজিত বাবুর হত্যাকান্ডের জন্য দায়ী). যাই হোক মানুষ এই দ্বিতীয় দলকে বিশ্বাস করে সিংহাসনে বসায় ও এই দল তাদেরকে পৃথিবী জয়ের পথে উদ্বুদ্ধ করে . Bhasko DA Gama , COLOMBAS প্রভৃতি দূতদের প্রথমে পাঠিয়ে তারা সমগ্র পৃথিবী জয় করতে সুরু করে . আমাদের দেশের মত "তৃতীয় বিশ্বের" দেশগুলির উপর অধিকার বর্তানো নিয়ে  তাদের মধ্যেই "বিশ্বযুদ্ধ" সুরু হয়.
বর্তমানে science এত উন্নতি লাভ করেছে যে ইউরোপের মত দেশগুলিতে যবক যুবতীরা 'drags' এ আচ্ছন্ন, খুন খারাপি politics তো সাধারণ ব্যাপার . বিশ্বের তাপমাত্রা নিত্য বেড়ে চলেছে plastic এর বাব্যহারে , AC র chlrofluro carbon 
ozon hole সৃষ্টি করে মেরুর বরফ গলিয়ে দিচ্ছে , রোগের মাত্রা এতই বেড়েছে যে ২০৩০ সালের মধ্যে হৃদরোগ মহামারীর আকারে চড়িয়ে পরবে .
সবচেয়ে ভালো ব্যাপার এই যে religion ভারতে প্রবেশ করে বল্লাল সেন এর মত রাজার উত্থান ঘটিয়ে বৈদিক দর্শন এর ধ্বংস করে জাতপাত ও কুসংস্কারে পরিপূর্ণ  ''হিন্দু" religion এর সৃষ্টি করেছে .পূর্বে  বৈদিক যুগে teacher দের ব্রাহ্মন বলা হত এবং প্রত্যেকে নিজের জীবিকার অনুযায়ী পদাধিকার পেতেন . কিন্তু য়ুরপাগত religion এর গুনে উহা বংশানুক্রমিক হয়ে পরায় বৈদিক সংস্কৃতি সম্পূর্ণ রূপে বিলুপ্ত হয়েছে.
আর এই science এর গুনে প্রত্যেক মানুষ এতই morden ও civilized যে সে জন্মমাত্রই নিজেকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত করে নিজেকে একটি অট্টালিকার মধ্যে আবদ্ধ রাখে, রোগগ্রস্ত হয়ে সে হাপাতে হাপাতে সেই বাড়ি বা hospital এ মৃত্যুবরণ করে . 
আদিম ভারতের জনজীবন কেমন ছিল তা আপনারা সাঁওতালদের জীবনযাত্রা থেকে বুঝতে পারবেন. 
আপনারা religion এর সাথে ধর্ম তুলনা করেছেন . কিন্তু "ধর্ম" শব্দের অর্থ property বা charactaristics , "রিলিজিওন" নয়, যার মানে হলো বৈশিষ্ট্য. মানুষেরও কিছু matter আছে , প্রাচীন ভারতে বৈদিক ঋষিরা মানুষকে কিছু good properties অনুসরণ করতে বলেছিলেন. religion নামক পলিটিক্স তাঁদের কাছে অজ্ঞাত ছিল. good charactaristics এর মাধ্যমেই তাঁরা সত্যদর্শন তথা "বিজ্ঞান " লাভ করার কথা বলেছিলেন.
এই দীর্ঘ চিঠি লেখার উদ্দেশ্য হলো  আপনারা বেদ সম্বন্ধে যে বিকৃত তথ্য প্রচার করেছেন তার সমুচিত জবাব দেওয়া .
আপনারা আমার এই চিঠির জবাব না দিলে বা তা প্রকাশ না করলে কিছুমাত্র দুঃক্ষিত হব না .
Maxmuller প্রমুখ য়রুপীয় religion-ist রা বেদের যে বিকৃত অনুবাদ করেছেন তার পরিপ্রেক্ষিতে আপনাদের মন্তব্যের বিরুদ্ধে এই চিঠি লিখলাম . বেদ প্রাচীন ছান্দস ভাষায় রচিত যার সঙ্গে অধুনাপ্রচলিত সংস্কৃতের কোনো মিল নেই . যদি বেদমন্ত্রের প্রকৃত অর্থ জানতে ইচ্ছা হয় তবে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন- আমার ব্লগ  বা email এর মাধ্যমে.
ইতি-এক অতি হীন জীব

ORDO DRACONUM

ORDO DRACONUM